রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ৭ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেলেন এড. মুরাদ মুন্সী

বৃহস্পতিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | 33 বার

শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেলেন এড. মুরাদ মুন্সী

শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা সভাপতি এডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সী। জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গণে কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরুপ এ সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারী) “জাতীয় কবিতা দিবস” উপলক্ষে বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটির উদ্যোগে বিকাল ৪ টায় ‘সুন্দর দেশ গঠনে শিক্ষা সাহিত্য চর্চার বিকল্প নেই” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাহিত্য পুরস্কার ২০২১-এ এডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সীকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তাকে সম্মাননা তুলে দেন বিটিআরসি’র মাননীয় চেয়ারম্যান ও লেখক শ্যাম সুন্দর সিকদার।

বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এম. শরীফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ কফিল উদ্দিন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন।

এড. মুরাদ হোসেন মুন্সী পেশায় একজন আইনজীবী হলেও নিরলসভাবে শরীয়তপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেকে ব্যাপকভাবে তুলে ধরেছেন। জেলার সকল ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত। তিনি শরীয়তপুরের শিল্পি সাহিত্যিকদের প্রিয় মানুষ। এড. মুরাদ মুন্সী এমন একজন ব্যক্তিত্ব যার একই অঙ্গে অনেক রূপ অনেক গুণ। তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের শরীয়তপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। ঐ সময় শরীয়তপুরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। গণজাগরণ মঞ্চের সাথে তালমিলিয়ে শরীয়তপুরে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন এবং পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে মাঠ দখলে রাখেন। শরীয়তপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কমিটিতে থাকাবস্থায় শিল্পীদের সমস্যার কথা ভেবে সরকারী অর্থের পাশাপাশি নিজ অর্থে ভবনের মেরামত কাজ করেন। এড. মুরাদ মুন্সী দীর্ঘদিন যাবৎ সম্মিলিত সাংকৃতিক জোটের শরীয়পুর জেলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া চারুনীড়ম ইনস্টিটিউট এর শরীয়তপুর জেলা শাখার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে তিনি সামনে থেকে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করছেন। তিনি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের শরীয়তপুরের পথিকৃত। দীর্ঘ একযুগ যাবৎ নিরাপদ সড়ক চাই শরীয়তপুর জেলার তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক এবং ২ মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ সংগঠনের পুরস্কারও পেয়েছেন। গাঙ চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় সুস্থ্যধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন এবং তিনি বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক শর্টফিল্ম তৈরী করে তা বিনা মূল্যে প্রদর্শন করে আসছেন। শরীয়তপুর জেলাকে পরিচিতি করার জন্য শরীয়তপুরের মাটি ও মানুষের কল্যাণে এড. মুরাদ হোসেন মুন্সী নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি প্রথম শরীয়তপুর জেলা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের প্রথা চালু করেন। ২০১৪ সালে ৩১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে পালিত হচ্ছে। আধুনিক শরীয়তপুরের ইতিহাস লেখার কাজে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। শরীয়তপুরের পথে প্রান্তরে ঘরে-ঘরে জনে-জনে তার সুনাম ও কল্যাণ কর্ম দিনদিন ছড়িয়ে পড়ছে।

এডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সী শরীয়তপুর জেলার চিকন্দী ইউনিয়নের টাউন চিকন্দীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবার নাম মৃত আবুল হাসেম মুন্সী, মাতা বেগম রাহিলা খাতুন। মুরাদ মুন্সীর মা একজন রতœগর্ভা মহিয়সী নারী। হাস্যজ্বল সদালাপি মুরাদ হোসেন মুন্সীর আচার আচরণ অত্যন্ত ভদ্রাচিত ও মার্জিত। আইন অঙ্গণে তিনি ব্যাপক পরিচিত মুখ। শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ লাভ করে আইন পেশার পাশাপাশি আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির তিনবার সাংস্কৃতিক সম্পাদক, একবার যুগ্মসম্পাদক ও একবার সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। গরীব দুঃখী মানুষের বিনা মূল্যে ও স্বল্প মূল্যে কিভাবে আইন সহায়তা করা যায় তা নিয়েও তিনি কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি নোটারী পাবলিক হিসাবে নিযুক্ত রয়েছেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাÐে লিপ্ত ছিলেন। ঢাকায় পাঠ্যরত অবস্থায় তিনি মঞ্চ নাটকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন। ঢাকায় ছাত্র জীবনে গ্রæপ থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে মহিলা সমিতি এবং গাইড হাউজে নিয়মিত মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে শরীয়তপুর থিয়েটারের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে শরীয়তপুরের বেশ কিছু মঞ্চ নাটক প্রদর্শন করেন এবং টেলিভিশনের কিছু নাটকে এবং বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন। তাছাড়া তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত যাদুশিল্পীও। তিনি টেলিভিশন ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন মঞ্চে স্বপ্রনোদিত হয়ে যাদু প্রদর্শন করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা, সম্মাননা ও সুনাম অর্জন করেছেন। মুরাদ হোসেন মুন্সী একজন প্রশিক্ষিত ফটোগ্রাফারও বটে। তিনি ব্যাপক শ্রম ও মেধা ব্যয় করে শরীয়তপুরে কিছু প্রশিক্ষিত ফটোগ্রাফার তৈরী করেন। অভিনয়, যাদু আর ফটোগ্রাফীতেই তিনি সীমাবদ্ধ নন। অনেকে তাকে সাংবাদিক হিসাবে জানেন। ২০১৪ সালে শরীয়তপুর জার্নাল নামে অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং ঐ বছরই শরীয়তপুর অনলাইনে জার্নাল এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ঐ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

মন্তব্য

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়