সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ১ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অনিয়মের মধ্য দিয়ে জাজিরার দুর্বাডাংগা মাদরাসার সুপার নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১ | ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | 34 বার

অনিয়মের মধ্য দিয়ে জাজিরার দুর্বাডাংগা মাদরাসার সুপার নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার দুর্বাডাংগা আবু বকর সিদ্দিকীয়া দারুচ্ছুন্নাহ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও দপ্তরী নিয়োগ পরীক্ষা শত অনিয়মের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। (সোমবার) ২৫ জানুয়ারী সকাল ১০ টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও যথা সময়ের প্রায় ৪ ঘন্টা পরে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ইতোপূর্বে তিনটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও প্রায় ৫ টি পরীক্ষার তারিখ অতিবাহিত হয়েছে বলেও নিয়োগ প্রার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে।

যোগ্যপ্রার্থীকে এড়িয়ে টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ও পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছলচাতুরির আশ্রয় গ্রহণ করছেন বলেও জানা গেছে একটি লিখিত অভিযোগ থেকে। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, দুর্বাডাংগা আবু বকর সিদ্দিকীয়া দারুচ্ছুন্নাহ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় প্রায় ৮ বছর যাবৎ সুপারের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সহ-সুপার। ২০১৯ সালের মে মাস থেকে সুপার নিয়োগের চেষ্টা করে আসছিলেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। সেই থেকে অদ্য পর্যন্ত ৩ বার জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৫ বার নিয়োগ প্রার্থীদের চিঠি করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোজাম্মেল হকের পছন্দের প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি বিভিন্ন অজুহাতে নিয়োগ পরীক্ষা বানচাল করে দেন। এবারের পরীক্ষার জন্য প্রথমে ১৬ জানুয়ারী ও ১৮ জানুয়ারী পরীক্ষার তারিখ দিয়েও তা কৌশলে বাতিল করে শিক্ষা অফিসার। পরবর্তীতে পুণরায় ২৫ জানুয়ারী শিক্ষা অফিসারের পছন্দ অনুযায়ী তরিঘরি করে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষনা করে। সকাল ১০ টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কৌশলে তা দুপুর ২ টায় নিয়ে যায়। একই সময়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ফলাফল ঘোষণা নিয়ে আবারও তালবাহানা করেন ওই কর্মকর্তা। সুপার পদে ৮ জন আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ৪ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আজ নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। সকাল ১০টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নিয়োগ প্রার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। অথচ নিয়োগকর্তা ১২ টা পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয় নাই।

মোবাইল ফোনে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা জানায়, তিনি ঢাকা থেকে ডিজি প্রতিনিধিকে নিয়ে আসার পথে রয়েছেন। তবে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সুপার পদে পরীক্ষা দিতে আসা মো. মজিবুর রহমান জানায়, তিনি ২০১৯ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৫ বার নিয়োগ পরীক্ষার জন্য চিঠি পেয়েছেন। এই মাসেও চিঠি পেয়েছেন ৩ বার। একবারও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় নাই। আজও সকাল ১০টার স্থলে দুপুর ১২টা বেজে গেল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। কোন অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য এই ছলচাতুরি হচ্ছে তা আমার জনা নাই। তবে সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে আমি নিয়োগ পাব বলে আশাবাদী।

পরীক্ষার নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মৌলভী মাওলানা হারুন অর রশিদ বলেন, এই পর্যন্ত ৩ বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। প্রথমবার প্রার্থীরা হাজির না হওয়ায় পরীক্ষা বাতিল হয়। পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পরে করোনা মহামারী শুরু হওয়ায় পরীক্ষা বাতিল হয়। আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করি। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আজ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দপ্তরী পদে ৭ জন আবেদন করেছে এবং তারা সকলেই উপস্থিত হয়েছে। সুপার পদে ৮ জন আবেদন করেছেন। এদের মধ্য থেকে ৩ জনকে উপস্থিত দেখতে পাচ্ছি। অন্যান্যদের সাথেও ফোনে আলাপ করতেছি তারাও আসবে বলে জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি তবে আজই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, স্থানীয় এমপি মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সকলেই একটি যোগ্য সুপার নিয়োগ দেয়ার পক্ষে রয়েছি। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন অনিয়মের আশ্রয় গ্রহণ করা হচ্ছে না বা আর্থিক কোন বিষয়ও এর সাথে জড়িত নাই। স্থানীয় দলাদলির কারণে হয়তো নিয়োগের পক্ষে বিপক্ষে অপশক্তি কাজ করছে। সকল কিছু পিছনে ফেলে একজন যোগ্য সুপার নিয়োগ দেয়ার জন্য পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন তৈরী চলছে। ৪ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত হয়েছে। তাদের মধ্যেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়