বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১৪ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ইং

হাবিব-মনিরের খুনিরা যত প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর হোক পার পাবেনা : ইকবাল হোসেন অপু এমপি

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২০ | ৬:৫৩ অপরাহ্ণ | 39 বার

হাবিব-মনিরের খুনিরা যত প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর হোক পার পাবেনা : ইকবাল হোসেন অপু এমপি

শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হাবিবুর রহমান ও তার ভাই পৌরসভা যুবলীগ নেতা মনির হোসেন মুন্সীর খুনিরা পার পাবেনা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। তিনি বলেন, খুনিরা যত প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর হোক তারা পার পাবেনা। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাদের ক্ষমা করবেনা। খুনিদের বিচার হবেই।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অ্যাড. হাবিবুর রহমান ও মনির হোসেন মুন্সীর ১৯তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি আবুল হাসেম তপাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মির্জা হজরত আলী, শরীয়তপুর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাড. জাহাঙ্গীর বেপারী, পৌরসভা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর মৃধা প্রমুখ।

মামলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ছিলেন জাজিরা উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতা প্রয়াত হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ। তখন বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গর পক্ষে অবস্থান নেয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোবারক আলী শিকদারের পক্ষে কাজ করেন শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর জেলার জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. হাবিবুর রহমান এবং তার ভাই শরীয়তপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন মুন্সী। ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতায় পালং-জাজিরার ১২টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করা হয়।

পরবর্তীতে ৮ অক্টোবর স্থগিত ওই কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়। ৫ অক্টোবর রাতে অ্যাড. হাবিবুর রহমান মুন্সীর বাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোবারক আলী শিকদারের পক্ষে নির্বাচনী সভা চলার সময় জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সম্পাদক অ্যাড. হাবিবুর রহমান ও তার ভাই মনির মুন্সিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের কিছু দুষ্কৃতকারী। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ জয়লাভ করেন এবং বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে।

নিহত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত রহমান বাদী হয়ে তৎকালীন শরীয়তপুর-১ আসনের সাংসদ প্রয়াত হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গসহ ৫৪ জনকে আসামি করে পালং মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মী।

বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন এই হত্যার বিচার নিয়ে অনেক নাটক ও টালবাহানা শুরু হয়। অবশেষে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সকল আসামীকে অন্তর্ভুক্ত রেখে সর্বশেষ ২০১৩ সালে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। ২০১৫ সালে এই মামলায় চার্জ গঠন করে আদালত। বর্তমানে শরীয়তপুর জজ আদালতে মামলার স্বাক্ষগ্রহণ চলছে।
হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গসহ ৪ আসামী মারা গেছে। কয়েকজন আসামী বিদেশ চলে যায়। বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়