সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১১ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ইং

শরীয়তপুরে ইলিয়াস কাঞ্চন টিটুর অপমৃত্যুর চাঞ্চল্যকর রহস্যজনক তথ্য

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | 37 বার

শরীয়তপুরে ইলিয়াস কাঞ্চন টিটুর অপমৃত্যুর চাঞ্চল্যকর রহস্যজনক তথ্য

শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায় ইলিয়াস কাঞ্চন টিটুর মৃত্যুতে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলায় ১ জনকে গ্রেফতার করেন গোসাইরহাট থানা পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ঢাকেরহাট গ্রামের আঃ জজিল সরদারের ছেলে মৃত ইলিয়াস কাঞ্চন টিটু গত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে পেনার বাজার তার নিজস্ব ঔষুধের দোকান থেকে রাত আনুমানিক ১১ টায় বাড়িতে আসে, রাত সাড়ে ১১ টায় গ্রেফতারকৃত আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা ইলিয়াছ কাঞ্চন টিটুকে পানির সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য দিয়ে অচেতন করে সকল আসামীগণ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে চলে যায়। মৃত ইলিয়াছ কাঞ্চনের স্ত্রী মিলি বেগম সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে পাশের ঘরে স্বামীর লাশ।

সরেজমিনে গিয়ে মৃত্যুর বিষয়ে জানতে গেলে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে ৭ টার দিকে নিজ বাড়িতে লাশ পাওয়া যায় ইলিয়াছ কাঞ্চন টিটুর। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকা জুড়ে। শুরু হয় নানা গুঞ্জন। কেউ বলছে হত্যাকান্ড আবার কেউ বলছে অপমৃত্যু। মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে মৃতের স্ত্রী মিলি বেগম ও একই এলাকার শহিদুল ইসলাম এবং মোতালেব সহ ১২ জন এ হত্যাযোগ্যে জড়িত।

স্থানীয়দের সাথে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে তারা বলেন, নাগেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও একই এলাকার মুজাম্মেল খানের সাথে দীর্ঘদিন যাবত রাজনৈকিত ক্রন্দল চলছে। গত ৫ই সেপ্টেম্বর বড় কাছনা গ্রামের ডাঃ জলিল সরদারের বড় ছেলে টিটুর মৃত্যুর খবর শুনতে পাই। এলাকার মানুষ মৃতের বাড়িতে ছুটে গেলে শুনা যায় নানা গুঞ্জন। অনেকেই বলছে স্ট্রোক করেছে আবার বলছে এটি অপমৃত্যু না, এটি হত্যাকান্ড। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাশ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন এটি স্বাভাবিক মৃত্যু না, তাই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানায় গত ৫ই সেপ্টেম্বর ডাঃ জলিল সরদার বাদি হয়ে অজ্ঞাত নামায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৮/তারিখ ০৫-০৯-২০২০ ইং। পরবর্তীতে শরীয়তপুর বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নির্দেশক্রমে গোসাইরহাট থানায় ১৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ডাঃ জলিল সরদার। যার এফ আই আর নং-০৯/৮৪, ধারা ৩০২/১০৯/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড। এ ঘটনায় ছোট কাছনা গ্রামের জাহিদ খাঁন (২৫) কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন গোসাইরহাট থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামী জাহিদ খাঁন ছোট কাচনা গ্রামের মৃত আঃ মান্নান খাঁনের ছোট ছেলে।

জাহিদের বিষয়ে জানতে চাইলে একই গ্রামের ও খাশেরহাট দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আবু তাহের বলেন জাহিদ খাঁন একজন মেধাবী ও অত্যান্ত ভদ্র ছেলে। সে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার কামিল তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। নিজ এলাকার মসজিদ নির্মাণের সহযোগীতা করতে বাড়িতে এসেছে। তার বড় ভাই মুজাম্মেল খাঁন ও সাবেক চেয়ারম্যান ডাঃ জলিলের সাথে ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছে, আর এ প্রতিহিংসায় জাহিদের মত মেধাবী ছাত্রকে জেল-হাজতের শিকার হতে হয়েছে।

জাহিদের মাতা সাহনাজ বেগম (৭০) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার আদরের ছোট ছেলে জাহিদ খাঁন। আমার স্বপ্ন ছিল আমার এই ছেলেকে মাওলানা বানাবো। তাই ঢাকায় পড়ালেখা করিয়েছি। আজ সেই স্বপ্ন বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে তাদের রাজনৈকিত প্রতিহিংসার শিকারে। আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আনসার আলী (৪০) বলেন, অত্র এলাকায় জাহিদের মত এত ভদ্র ছেলে হয়না। আজ ডাঃ জলিল ও তার বড় ভাই মুজাম্মেল এর রাজনৈতিক ক্রন্দলের জেরে এই ছেলেকে মিথ্যা মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। টিটুর আসল হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার করা হোক।

নিহতের খালু আঃ সাত্তার বলেন, টিটু মারা যাওয়ার কথা শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে শুনি কেউ বলছে স্ট্রোক করে মারা গেছে আবার কেউ বলছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের মধ্যে জাহিদকে আটক করা হয়েছে। তবে জাহিদ হত্যাকান্ড করার মত ছেলে না। দীর্ঘকালীন সময়ে আমি জাহিদকে চিনি। সে অত্যান্ত মেধাবী, নামাজী, ভদ্র ছেলে।

নিহতের বাবা ও মামলার বাদি ডাঃ জলিল সরদার বলেন, মৃত্যুর ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলামনা। খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে আসি। এসে দেখি আমার বড় ছেলে টিটুকে কারা যেন হত্যা করেছে। পরে শুনি রাতে আমার ছেলের রুমে শহিদ ও মোতালেব এসেছিল। এবং আমরা জানার আগেই মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় প্রচার করেন তারা। তাই আমি অপমৃত্যুর মামলাটি ঘুরিয়ে হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে আমি ১৩ জনকে আসামী করে আদালতের মাধ্যমে গোসাইরহাট থানায় মামলা করি। এ মামলায় আমার প্রতিপক্ষ মুজাম্মেল এর ছোট ভাই জাহিদ খাঁনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী করছি। যারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আছে সে যেই হউক তাদের আইনের আওতায় আনার দাবী করছি।

গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা সোয়েব আলী বলেন, এ ঘটনায় ডাঃ আঃ জলিল সরদার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে তিনি আদালতে হত্যা মামলার জন্য আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত মামলার জন্য নির্দেশ করলে আমি মামলাটি নেই এবং আদালতকে অবগত করি যে এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রয়েছে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়