শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ৪ আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ভেদরগঞ্জের মোহাম্মদ আলী মানবপাচার মামলায় চাকরী থেকে বরখাস্ত

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ | 20 বার

ভেদরগঞ্জের মোহাম্মদ আলী মানবপাচার মামলায় চাকরী থেকে বরখাস্ত

পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানবপাচার মামলায় জেল খেটে অবশেষে চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া গ্রামের মৃত আফসার উদ্দিন তালুকদারের ছেলে মোহাম্মদ আলী তালুকদার। গত ২২ ফেব্রæয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সহকারী বলকানাইজিং অপারেটর পদ থেকে কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এর আগে গত ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রæয়ারী পাসপোর্ট জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে মানবপাচারের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার ফুলবাড়ি গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ আলীর সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর সাড়ে ৩ লাখ টাকায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য তার সাথে চুক্তিবদ্ধ হন জাহাঙ্গীর আলম। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারী ঢাকার ফকিরাপুল নিউ রিসেন্ট আবাসিক হোটেলে বসে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য জাহাঙ্গীর আলম মোহাম্মদ আলীকে ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারী মোহাম্মদ আলী জাহাঙ্গীর আলমকে ফোনে জানান ২০ ফেব্রæয়ারী ২০১৫ তারিখে তার মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ওই তারিখে জাহাঙ্গীর আলমকে বাকি দেড় লাখ টাকা সহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে হাবিব রেস্টুরেন্টে উপস্থিত থাকতে বলেন মোহাম্মদ আলী। জাহাঙ্গীর আলম মোহাম্মদ আলীর কথামত উক্ত স্থানে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে বাকি দেড় লাখ টাকা মোহাম্মদ আলীকে প্রদান করেন। তখন মোহাম্মদ আলী জাহাঙ্গীর আলমকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য দলিলাদি দিয়ে বলে এগুলো দিয়ে তোমাকে মালয়শিয়া যেতে হবে। তখন জাহাঙ্গীর আলম উক্ত পাসপোর্ট ও কগজপত্র দিয়ে এমএইচ ১১৩ বিমানের বার্ডিং কার্ড সংগ্রহ করে বহিঃ ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার জন্য গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ ইমপোষ্টার হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের মালয়েশিয়া যাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে জাহাঙ্গীর আলম মোহাম্মদ আলী সহ দুইজনকে আসামী করে গত ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রæয়ারী পাসপোর্ট জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে মানবপাচারের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। পরে আদালত মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেল হজতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী জামিনে ছাড়া পান। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম আসামী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশনে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি করর্পোরেশন মোহাম্মদ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

এ বিষয়ে জানার জন্য মোহাম্মদ আলীকে ফোন করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়