মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ মঙ্গলবার | ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ইং

শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ | ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ | 54 বার

শরীয়তপুরের পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বাড়ার কারণে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৯ টায় নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের ১৩ স্থানে বন্যার পানি হাঁটু পর্যন্ত উঠে তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে তিনটি স্থান ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গত পাঁচ দিন যাবত ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে জেলার ও দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ সকল ধরনের যানবাহন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নড়িয়া ও জাজিরা অধিকাংশ গ্রামীন পাকা কাঁচা সড়ক পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্ত:জেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে ও ভেঙে যাওয়ায় গত পাঁচ দিন যাবত বাস বন্ধ রয়েছে। বন্যার কারণে জেলার অন্যান্য সড়কেও বাস চলাচল বন্ধ। সামনে ঈদ, ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ শরীয়তপুরে আসবে। এ সময়টা বাস মালিক ও শ্রমিকদের ইনকামের সময়। বন্যার কারণে বাস বন্ধ থাকায় এক হাজার ৫০০ বাস শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের গাগ্রীজোড়া, ডোমসার মোড়, কাজিকান্দি, ঢালিকান্দি, মাঝিরহাট বাজার, পোড়াকান্দি, ডগ্রী বাজার, নশাসন, জামতলাসহ ১৩ স্থানে পানি উঠেছে। পানির তোড়ে পোড়াকান্দি, জামতলা ও নশাসন এই তিনটি স্থানে গভীরভাবে ভেঙে গেছে। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু সড়কটি পরিদর্শণ করেছেন।

এদিকে, বন্যায় জেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পরেছে। দুর্গত এলাকায় চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। ত্রাণের নৌকা দেখলেই ভিড় করছেন মানুষ। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭০ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান শুক্রবার নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়ন, নড়িয়া পৌরসভা এবং শনিবার জাজিরা উপজেলার মাঝিরঘাট, পাইনপাড়া এলাকায় বন্যা দুর্গত মোট ৩৫০ টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম আহসান হাবীব বলেন, রোববার সকাল ৯টায় নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে পানি বাড়ার কারণে সড়ক ও নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়