আজ মঙ্গলবার | ২১ মে, ২০১৯ ইং
| ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ রমযান, ১৪৪০ হিজরী | সময় : দুপুর ১:৫০

মেনু

জাজিরায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা

জাজিরায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮
৮:০০ পূর্বাহ্ণ
104 বার

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল পদ্মা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন কুন্ডের চর ইউনিয়নের বাবুরচর আব্বাস বেপারী কান্দি গ্রামের সিরাজ বেপারীর ছেলে ইমান হোসেন বেপারী তার স্ত্রী আছিয়া বেগম খুকুমনিকে যৌতুক এর টাকা না পাওয়ায়, নিজ বসত ঘরের মধ্যে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। অভিযোগ নিহত গৃহবধু খুকুমনির স্বজনদের।
সংবাদ পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে ইমান হোসেনের বসত ঘর থেকে গৃহবধু খুকুমনির লাশ শুক্রবার সকালে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে একই ইউনিয়নের গুনগাও গ্রামের গুনগাও মসজিদ কবর স্থানে দাফন সম্পূর্ন করে পরিবার। এঘটনায় খুকুমনির পিতা হারুন অর রশিদ জাজিরা থানায় স্বামী ইমন হোসেন বেপারীসহ ৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের বাবা মা ভাই বোন ও অন্যান্য স্বজনরা জানায়, কুন্ডের চর ইউনিয়নের গুনগাও সোহরাব মল্লিক কান্দি গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদের ছোট কন্যা কোরআনে হাফেজা আছিয়া বেগম খুকুমনিকে প্রায় ৫ বছর আগে ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেমবরে পাশ^বর্তি বাবুরচর আব্বাস বেপারীর কান্দি গ্রামের সিরাজ বেপারীর মালেশিয়া প্রবাসী পুত্র ইমান হোসেন বেপারীর সাথে সমাজিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শশুরালয়ে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের স্বিকার হয়ে আসছিল খুকুমনি। ৫ বছরের দাম্পত্ত জীবনে তাদের ২টি কন্যা সন্তান রয়েছে। চলতি মাসের ১১ তারিখে মালেশিয়া থেকে দেশে ফিরেই ইটালী যাওয়ার নাম করে খুকুমনীর পিতার পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ টাকা চায়। টাকা দিতে না পারায় নতুন করে শুরু হয় গৃহবধু খুকুমনির উপর মানষিক ও শাররিক নির্যাতন। স্বামী শশুর শাশুরী নির্যাতন সইতে না পেরে সপ্তাহ আগে পিতার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে দেয় খুকুমনি। কিন্তু রক্ষা হয়নি শেষ পর্যন্ত তাকে প্রান হারাতেই হলো।
খুকুমনীর এমন মৃত্যু যেন মেনে নিতে পারছে না তার বাবা মা ভাই বোন ও অন্যান্য স্বজন সহ গ্রামবাসী। মা বা ও স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে শোকে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। হত্যার বিচার দাবি করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ পেয়ে ছুটে গিয়ে খুকুমনির নিথর দেহ বসত ঘরের খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখে জাজিরা থানায় খবর দিয়েছিল নিহতের বাবা হারুন অর রশিদ জমাদার। কিন্তু পদ্মা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চর হওয়ায় পরের দিন সকালে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেন। ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে খুকুমনির লাশের দাফন সম্পূর্ন করে স্বজনরা। স্বামী ইমন হোসেন বেপারীম শশুর সিরাজ বেপারী ও শাশুরী ফরিদা বেগম, ফুপা শশুর আজিজল বেপারী ও ফুফু শাশুরি ফুলি বেগম ঘটনার পর থেকেই পালাতক রয়েছে।
এদিকে জাজিরা থানা পুলিশ জানিয়েছেন, এব্যপারে মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃত্যুর কারন জানতে ময়না তদন্ত সম্পূর্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত গৃহবধুর গলায় ও ডান কানের পিছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলতে রাজি হননি থানার ওসি বেলায়েত হোসেন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments