আজ মঙ্গলবার | ২১ মে, ২০১৯ ইং
| ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ রমযান, ১৪৪০ হিজরী | সময় : দুপুর ১২:৩৬

মেনু

শরীয়তপুর ধর্মীয় শিক্ষা অন্তরালে গড়ে উঠেছে বিতর্কিত নাম সর্বস্ব অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শরীয়তপুর ধর্মীয় শিক্ষা অন্তরালে গড়ে উঠেছে বিতর্কিত নাম সর্বস্ব অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শুক্রবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৮
১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
173 বার

কাগজেরপাতা প্রতিবেদক ॥ শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় শিক্ষার অন্তরালে গড়ে উঠেছে বিতর্কিত নাম সর্বস্ব অবৈধ অনুমোদন বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরজমিন ঘুুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে আড়ালে-আবডালে এক শ্রেণির ধর্মজ্ঞানহীন অতিলোভী লেবাসধারী ব্যক্তিবর্গ দু’চার রুমের একটি ঘর ভাড়া করে এক জন, দুজন সল্প শিক্ষিত শিক্ষক অতি কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে চালাচ্ছেন এ সব প্রতিষ্ঠান।
এ সব প্রতিষ্ঠানের রশিদ বই, লিফলেট হাতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জেলায় বিভিন্ন হাটে-বাজারে, বাসে-লঞ্চে, রাস্তাঘাটে এমন কী প্রত্যন্ত প্রল্লীর ঘরে ঘরে গিয়ে নানা ধরণের পন্য, নগদ টাকা আদায় করছেন। এতিম খানা,লিল্লাহ বোডিং ওয়াজ মাহফিলের কথা বলে তারা এ অর্থ তুলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান গুলোর লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় হলেও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, অনুমোদন, শিক্ষা কোন কিছুই হচ্ছে না। এ সব অর্থ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ভাগ বাটোয়ারা করে বিলাশ বহুল জীবন যাপন করছেন বলে জনা গেছে। অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এ সব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সহস্ত্রাধিক। এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এতিম খানা ও লিল্লাহ বোডিং সংশ্লিষ্ট থাকার কারনে থাকা খাওয়ার অযুহাতে এ সব ভিক্ষাবিত্তি ও চাঁদাবাজী চলছে। এ সব চাঁদাবাজী ভিক্ষাবিত্তি কাজ প্রতিষ্ঠানের কোমলমতী ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে করানো হচ্ছে। এ সব প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পেিবশ, নিম্মমানের খাবার ও হাড় ভাঙ্গা অমানবিক পরিশ্রম করে কোমলমতী শিশুরা দুর্বিসহ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিশুদের কে শিকল পড়িয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান শিশুদের শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে তাদের আদেশ-নিষেধ পালন করতে বাধ্য করছে।
বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা সংক্রান্ত সুনির্দষ্ট নীতিমালা থাকার পরও কোন প্রকার অনুমতি অনুমোদন ছাড়া নীতিমালা লংঘন প্রতিষ্ঠিত এ সব ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপসংস্কৃতি, ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজী ও জঙ্গীবাদ উৎসাহিত হচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। প্রশাসনের নাগের ডগায় শরীয়তপুর জেলা শহর ও তার আশ-পাশে এ ধরণের অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এর দিকে সংশ্লিষ্টদের কোন নজরদারি নেই।
অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এ সব ভুতুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন লেখা পড়ার ব্যবস্থা নেই । গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান গুলোতে আবাসিক সুবিধা থাকার কারনে এক শ্রেণি কান্ডজ্ঞানহীন দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে আসা হয় এসব প্রতিষ্ঠানে। এদেরকে প্রতিষ্ঠানে রেখে নিন্দনীয় ভিক্ষাবৃত্তি ও চাঁদাবাজী করানো হচ্ছে। এবং তাদের কে স্বাভাবিক জীবন যাপন ও স্বাভাবিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে অন্যায় অবিচারের মুখী করে বিপদগামী করে তুলছে। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন পড়া লেখার সুবিধা ও কারিকুলাম না থাকার কারণে এখানে ভর্তি কৃত শিক্ষার্থীরা এক পর্যায় শিক্ষা বিমুখ হয়ে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতার সুযোগে জঙ্গীবাদের সঙ্গে জ্বড়িয়ে পড়ছে। দেশে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার পরও এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি উদ্বেগ জনক। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ অতি স্বল্প শিক্ষিত ও সাধারণ জ্ঞ্যানের অধিকারী । তাদের সঙ্গে জঙ্গী নেটওয়ার্কের সদস্যগণ যোগাযোগ করে স্পর্শকাতর ধর্মীয় অনুভুতির সুযোগ নিয়ে নানা সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জঙ্গীবাদে জ্বড়িয়ে ফেলছেন।
এ সম্পর্কে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বে-সরকারি ভাবে যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হলে নিয়ম-নীতি মেনে তা করতে হবে । এ সংক্রান্ত মন্ত্রনালয়ের নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালার আলোকে যে কেউ বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারবে। নীতিমালার বাইরে গিয়ে বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কোন সুযোগ নেই। যারা এটা করছে তারা সম্পূর্ণ অন্যায় করছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে যা উদ্বেগজনক।
সম্বিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শরীয়তপুর জেলার সহসভাপতি এ্যাডভোকেট আলী আহমেদ খান বলেন, গতানুগতিক বিজ্ঞান ভিক্তিক সাধারণ শিক্ষার বাইরে শিক্ষা কোন শিক্ষাই না । যত্রতত্র গড়ে ওঠা মাদ্রাসা নামীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে শিক্ষা হচ্ছে তা দুঃজনক। এর মাধ্যমে জঙ্গীবাদের বিকাশ সাধিত হচ্ছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, তা ছাড়া ইসলামিক শিক্ষা গ্রহণের স্বীকৃতি প্রাপ্ত অনেক ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা দেশে চালু রয়েছে। এর পরও এখানে সেখানে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে ধর্ম ব্যবসায়িরা শিশুদের যা শিক্ষা দিচ্ছে তা গ্রহণ যোগ্য নয়।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, এতিম খানা সম্বলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর তা নির্ধারিত নিয়মনীতি অবলম্বন করে নিবন্ধন করার নিয়ম রয়েছে। নিবন্ধন কৃত এতিম খানা গুলোতে সরকারি ভাবে সহায়তা করা হয়। নিবন্ধন এর বাইরে থাকলে সরকারি ভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হয় না।
সাংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নুরুল হক ঢালী বলেন, আমাদের ৭২ এর সংবিধানে সার্বজনিন বিঙ্গান ভিক্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা ছিল। কালক্রমে তা বিলীন হয়ে গেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিভাজনের সুযোগে বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে মাদ্রাসা নামীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মৌলবাদী ধ্যান-ধারণা তৈরী হচ্ছে এবং এ থেকে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি হচ্ছে। পশ্চাৎপদ এ শিক্ষায় আমাদের সন্তানদের উজ্জল ভবিস্যৎ নষ্ট হচ্ছে। এ সব প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের সন্তানরা কী শিখছে, কী জানছে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিরোদ্ধে সরকারি ভাবে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান এবং এর সঙ্গে জরিতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের আহবান জানান।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments