আজ বুধবার | ২৬ জুন, ২০১৯ ইং
| ১২ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী | সময় : সন্ধ্যা ৬:৩৫

মেনু

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এসডিএস ও মজিবর রহমান

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এসডিএস ও মজিবর রহমান

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭
১০:২১ পূর্বাহ্ণ
1030 বার

এসডিএস, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সংক্ষিপ্ত নাম। এখন এসডিএস’ই একটি ব্রান্ড। এসডিএস শুনতেই সকলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। এসডিএস বা শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি দেশের অন্যতম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। আমার যদ্দুর মনে পড়ে সম্ভবত ৯০ দশকের গোড়ার দিকে শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি এসডিএস এর জন্ম। সে হিসেবে প্রাই দুই যুগেরও বেশী সময় অবধি এসডিএস পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও আর্ত-মানবতার সেবায় আত্ম-নিবেদিত। অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে এসডিএস আজকের এ অবস্থানে পৌঁছেছে। এ অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে অনেক দুর্গম পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। আমি শরীয়তপুরের সন্তান হিসেবে সর্বক্ষণিক শরীয়তপুর অবস্থান করে খুব কাছ থেকে এসডিএস কে অবলোকন করার সুযোগ পেয়েছি। আমি খুব সৌভাগ্যবান এ জন্য যে,

এসডিএস এর নির্বাহী পরিচালক মজিবর রহমান একজন খ্যাতী সম্পন্ন মানুষ, সাংবাদিক হওয়ার সুবাদে পেশাগত ভাবে আমি নানা কারণে তার সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কাজ করতে গিয়ে খুব নীবিড় ভাবে তাকে অবলোকন করতে পেরেছি। মনে পড়ে এসডিএস এর প্রথম প্রধান কর্যলয়ের কথা। শরীয়তপুর পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে একখানা ঘর ভাড়া নিয়ে মজিবর ভাই এসডিএস এর যাত্রা সূচনা করেছিলেন। এর পর তৎকালীন চিকন্দী হোটেলের পেছনে, আজকের এসডিএস এর প্রধান কর্যালয়ের পূর্ব পাশে কাকলী শিল্প গোষ্ঠীর অফিসে দীর্ঘদিন এসডিএস এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সেখান থেকে আজ এসডিএস তার নিজস্ব বলয়ে, নিজস্ব সম্পত্বিতে, নিজস্ব ভবনে উঠে এসেছে। এ উঠে আসার পেছনে এসডিএস এর নির্বাহী পরিচালক মজিবর রহমান এর ভুমিকা অনবদ্ধ। অক্লান্ত পরিশ্রম, কঠোর নিয়মানুবর্তীতা, শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় তিনি এসডিএস এর নেতৃত্ব দান করে এসডিএস কে দেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বক্ষম হয়েছেন। তার স্থানে অন্য কেউ হলে কোন দিনই এটা সম্ভব হত না। তার মত প্ররিশ্রমী লোক আমার জীবনে কমই দেখেছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে সকাল অবধি এসডিএস এর কাছে থেকে, এসডিএস এর পাশে থেকে এর উন্নয়ন, অগ্রগতি, কল্যাণ ও সম্প্রসারনের কাজ করে চলছেন। আমার জানা মতে এসডিএম এর উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা, বাধা-বিপত্তি, প্রতিকুল অবস্থার মোকাবেলা করতে হয়েছে। সবচেয়ে সুখের কথা হচ্ছে, কোন ঝড় বা কোন বাধাই তাকে রোধ করতে পারেনি। তাকে থামাতে পারেনি। ষড়যন্ত্রও কম হয়নি। কোন কিছুতেই তার দূর্বার দূর্দমনীয় চলার পথ রুদ্ধ করতে পারেনি।

এ না পারার পেছনে তার নিরপেক্ষ নীতি, ক্ষুরধার দক্ষতা, অক্লান্ত পরিশ্রম, শতভাগ স্বচ্ছতা উপর্যপুরী জবাবদিহিতা। এ কারনেই সকল বাঁধা কালের ¯্রােতে ভেসে গেছে। আর সে কারনেই এসডিএস রজত জয়ন্তী পর্ব পেরিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী পর্বে পদার্পণ করেছে। অতি সম্প্রতি এসডিএস এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। পথ পরিক্রমায় এসডিএস বিস্তৃত বিকশিত। এসডিএস শুধু শরীয়তপুর নয় দেশের ২০ টির অধিক জেলায় সম্প্রসারিত। স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারে হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, আত্ম-মানবতার সেবায় কাজ করে চলছে এসডিএস। এসডিএস এর ছাঁয়াতলে নাঙ্গা-ভুখা মানুষের পদচারণা। এসডিএস এর সুবাতাসে হতদরিদ্র মানুষ রিষ্ট-পুষ্ট। এসডিএস এর মায়ায় মুখে মুখে হাসি। এসডিএস আজ একটি প্রতিষ্ঠিত সংগঠন। এমডিএস একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। এখন আর পিছু ফিরে তাকাবার সময় নেই। এখন এগিয়ে যাবার পালা। এসডিএস এর কথা ভাবতে গেলে এর নির্বাহী পরিচালক মজিবর রহমান এর কথা এসে যায়। মজিবর ভাই ভিতরে বাহিরে সব সময় সাংগঠনিক লোক। একটা সংগঠনকে কী ভাবে গড়ে তোলা যায়। কী-ভাবে এগিয়ে নেয়া যায় সে চিন্তা চেতনা মননে ধারণ করেই জন্ম তার। তিনি ছাড়া আর কারো পক্ষেই এত সুন্দর , এত বড় একটি সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব হতো না। মজিবর ভাই সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারণা, তিনি সব সময় পজেটিভ মনোভাবের। নীতির সঙ্গে তাকে কখনো আপোষ করতে দেখেনি। তিনি অত্যন্ত মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। মানবিকতার কাছে তিনি সব সময় দূর্বল। সত্য ন্যয়ের পথে অত্যন্ত সাহসী, নিষ্ঠাবান মজিবর রহমান তার জীবন যৌবনের সুন্দরতম দিন গুলো মানুষের সেবায়, মানুষের কর্মে মানুষের কাছে, মানুষের পাশে থেকে ব্যয় করেছেন। কখনো সাংবাদিকতা, কখনো রাজনীতি, কখনো সমাজসেবা, কখনো মানব সেবা এ নিয়ে তার জীবন। তবে আশ্চর্য জনক ব্যাপার হলো, তিনি যখন যেখানে অবস্থান করেছেন যে পেশায়ই নিয়োজিত ছিলেন, সেখানে সে পেশায়ই তিনি শতভাগ সফলতা অর্জন করতে স্বক্ষম হয়েছেন। এ স্বক্ষমতার পেছনে তার শ্রম, মেধা, সততা, দক্ষ্যতা কাজ করেছে। যখন সাংবাদিকতা পেশায় ছিলেন তুখোড় সাংবাদিক হিসেবে ব্যপক পরিচিত লাভ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভির)’র শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি সহ দেশের বিখ্যাত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সুনামের সাথে কাজ করে মানুষের ভালবাসা, মানুষের ¯েœহ, মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। তিনি সাপ্তাহিক শরীয়তপুর নামে একখানা পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। এক সময় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এসডিএস এর নির্বাাহী পরিচালক মজিবর রহমান। শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলার রাজনীতি ছিল তার পছন্দ। অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম মিছিল, মিটিং বক্তৃতা, বিবৃতিতে তিনি সর্বহারা শ্রেণীর শোষিত মানুষের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন। এটা করতে গিয়েও বহু বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন মজিবর রহমান। কোন পরধীনতার শৃঙ্কল তাকে দমাতে পারেনি। রাজনৈতিক অঙ্গনে পঁচন দেখে তিনি সেখান থেকে দ্রুত প্রত্যবর্তন করে জনকল্যাণের জন্য, গণমানুষের সেবার জন্য গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী বে-সরকারী উন্নয়ন সংগঠন এসডিএস। এসডিএস এগিয়ে চলছে। এসডিএস এগিয়ে যাবে। এসডিএস এখন দেশের প্রায় ২০টি জেলার অনাহারী-অর্ধাহারী রোগ-শোকে কাতর, নাঙ্গা-ভুখা, ভূমিহীন বিত্তহীন, সহায় সম্বলহীন মানুষের আশ্রয় স্থল, ভরসাস্থল। এসডিএস এর উপর নির্ভর করে হাজার হাজার হতদারিদ্র লোক স্বাবলম্বী হচ্ছে। অনেক স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এসডিএস এর সাহায্য সহযোগিতায় হতদারিদ্রদের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আয় রোজগার বর্ধিত হচ্ছে। এসডিএস এর সদস্যগণ জানতে ও বুঝতে শিখছে জীবন গড়ার কৌশল। স্বনির্ভরতা অর্জনের কৌশল তারা রপ্ত করে নিয়েছে এসডিএস থেকে। এসডিএস তার কর্ম এলাকার হত দরিদ্র বিছিন্ন জনগোষ্ঠিকে একত্রিক করে তাদের প্রয়োজনিয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পুজি ও পরামর্শ প্রদান করে আত্ম-নির্ভরতা, স্বক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে চলছে। মানুষের দুর্যোগ দুঃসময়ে পাশে থেকে তার সাধ্যমত সাহায্য সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে এসডিএস। এসডিএস এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্ঠি হচ্ছে। এতে করে বেকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এসডিএস ব্যাপক কর্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষের খাদ্য চাহিদা, খাদ্য পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে এসডিএস সুনিদিষ্ট কর্ম সূচী গ্রহন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। নারীর ক্ষমতায়রে জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এসডিএস। লিঙ্গ বৈসম্য দূর করার জন্য তার রয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে এসডিএস এর ভূমিকা অনবদ্ধ। নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, কন্যা শিশুর প্রতি বৈসম্য মূলক আচরণ ইত্যাদি দুরীকরণের লক্ষে এসডিএস কর্মসূচী গ্রহন ও বাস্তবায়ন করে আসছে। কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প, হস্ত শিল্প, কুটির শিল্পের বিকাশ সাধনে এসডিএস কাজ করে যাচ্ছেন। এসব কাজের নেপথ্যে রয়েছে এসডিএস নির্বাহী পরিচালক মজিবর রহমান। তার দিক নির্দেশণা ও নেতৃত্বে এসডিএস আপন বলয়ে উজ্জল। একটানা ২৬ বছর মজিবর ভাই এসডিএস এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এর মধ্যে কোন ছন্দ পতন হয়নি। এক মুহূর্তের জন্যও এসডিএস থেমে থাকেনি। এসডিএস এর নির্বাহী পরিচালক মজিবর রহমান এগিয়ে যাবে, এসডিএস এগিয়ে যাবে। আর এরা এগিয়ে গেলে মানুষ এগিয়ে যাবে। সমাজ এগিয়ে যাবে। দেশ এগিয়ে যাবে। দেশ গড়ার, সমাজ গড়ার আদর্শ সংগঠন এসডিএস। এসডিএস গড়ার আদর্শ কারিগর মুজিবর রহমান। সদা হাস্যজ্বল, সদালপি, বন্ধু সুলভ, মানবদরদী, মানবিক কর্মী, দক্ষ সংগঠক এসডিএস এর নির্বাহী পরিচালক মজিবর রহমান ও তার প্রাণের সংগঠন শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) কে তার ২৬ তম বার্ষিক সাধারণ সভা সফল ভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য দৈনিক রুদ্রবার্তা ও রুদ্রবার্তা পরিবারের পক্ষ্য থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ। অফুরান শুভেচ্ছা।

লেখক: সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম পাইলট, সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক রুদ্রবার্তা, শরীয়তপুর । কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments