আজ শুক্রবার | ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং
| ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | সময় : সকাল ৬:২৪

মেনু

‘ডাকাত’ গুজবে আতঙ্কিত শরীয়তপুরের মানুষ

‘ডাকাত’ গুজবে আতঙ্কিত শরীয়তপুরের মানুষ

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
4650 বার

‘ডাকাত’ গুজবে আতঙ্কিত এক রাত কাটিয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ এলাকার মানুষ। মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে কিছু গুজবের সূত্র ধরে হঠাৎ করেই মানুষের মাঝে ডাকাতের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ বলছে বিপিএল ফাইনাল খেলার সূত্র ধরে বিলাসপুরের পাচুখার কান্দি গ্রামে সমর্থকদের চিৎকার চেচাঁমেচি থেকে এ গুজবের সূত্রপাত। আর প্রশাসন বলছে নড়িয়ার ইশ্বরকাঠি গ্রামে গরুচোর সন্দেহে দেয়া শোরগোল থেকেই ‘ডাকাত পড়েছে’ গুজবের সূত্রপাত। তবে গুজব হলেও সারারাত নির্ঘূম কাটিয়েছেন অনেক এলাকার মানুষ। আর পুলিশকেও রাত জেগে পাহারা দিতে হয়েছে বিভিন্ন এলাকা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ডাকাত আতঙ্কে মঙ্গলবার সারা রাত জাজিরার বিলাসপুর, কুন্ডেরচর, নড়িয়ার মোক্তারেরচর, জপসা, নড়িয়া পৌরসভা, কেদারপুর, ঘড়িষার, ডিঙ্গামানিক, চামটা, ভোজেশ্বর, ভেদরগঞ্জের মহিষার, রামভদ্রপুর, ডিএমখালি, চরভাগা সহ আরো অনেক এলাকার মানুষ ঘুমাননি। তারা লাঠিসোটা নিয়ে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিয়েছেন। পুলিশও বিভিন্ন এলাকা টহল দিয়ে বেড়িয়েছে।
স্থানীয় ইব্রাহীম হোসেন জানান, রাতে শুনতে পাই পাচুখার কান্দি এলাকায় ডাকাত পড়েছে। পরে ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে দেখি এটা একটা গুজব। বিপিএল খেলা দেখে সমর্থকরা শোরগোল করেছে। এটাকে কেউ কেউ ডাকাতের গুজব হিসেবে ছড়িয়েছে।
ডাকাতের গুজবটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে দ্রুত আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভেদরগঞ্জের ফেসবুক পেইজ ’ইউএনও ভেদরগঞ্জ শরীয়তপুর’ থেকে এ ধরণের গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়। সেখানে গৌতম দাস নামে একজন এ গুজব ছড়ানোর কারণ জানতে চান। তখন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ প্রতিউত্তরে বলেন, নড়িয়া পদ্মা নদীর পাড়ে কোন ট্রলার দেখে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে মাইকে প্রচার করলে তা বহুল প্রচারিত হয়ে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছে।
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম উদ্দিন বলেন, নড়িয়ার ইশ্বরকাঠি গ্রামে রাতে গরু চোর সন্দেহে এলাকাবাসী ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে। সেখান থেকেই ডাকাত গুজবের সূত্রপাত। পর্যায়ক্রমে এটা পার্শ্ববর্তী উপজেলা জাজিরা ও ভেদরগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সারারাত পাহারা ও তল্লাশী চালিয়েও কোনো গরু চোর বা ডাকাতের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ধরণের গুজব ছড়ানো ঠিক হয়নি।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments